শিরোনামঃ

২ জনকে হত্যা, ১৬ জনকে আটক, ৩০ জন আহত, ৫০ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও শতাধিক এলাকাছাড়া

জনসংহতি সমিতির বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দল ও প্রশাসনের ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবি

সিএইচটি টুডে ডট কম ডেস্ক। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন-২০১৬ এর তফসিল ঘোষণার পর থেকে বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলার স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীসহ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় জনসংহতি সমিতির সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র, দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক হয়রানি চালিয়ে আসছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।PCJSS

বৃহস্পতিবার রাতে সংগঠনটির পক্ষে পাঠানো এক লিফলেটে বলা হয়, নির্বাচন-উত্তর সময়ে আওয়ামীলীগ ও প্রশাসনের সেই হীন তৎপরতা আরো জোরদার হয়েছে। সাম্প্রতিক কালে কোন ঘটনা ঘটলেই তাতে জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বকে জড়িত করে মিথ্যা মামলা দায়ের, গ্রেফতার, হয়রানি করা হচ্ছে। জনসভা, সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ জনসংহতি সমিতিকে নিশ্চিহ্নকরণ ও সমিতির সদস্যদের জীবনহানি ও সম্পত্তি ধ্বংসের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে চলেছে। গত মার্চ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন-২০১৬ এর তফসিল ঘোষণার পর থেকে আজ অবধি আওয়ামীলীগের প্রত্যক্ষ মদদে জনসংহতি সমিতি ও সমিতির সহযোগী সংগঠনের ২ জন সদস্যকে হত্যা, ১৬ জনকে আটক, ৩০ জনকে আহত, কমপক্ষে ৫০ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং অন্তত শতাধিক সদস্যকে এলাকাছাড়া করা হয়েছে।

 

নিম্নে এর কিছু ঘটনা তুলে ধরা হলো-

১. অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির নামে জনসংহতি সমিতির বিরুদ্ধে অপপ্রচারণা
রাঙামাটি পার্বত্য জেলাধীন ইউনিয়নগুলোর (ইউপি) নির্বাচন ঘোষণার পরপরই ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ রাঙামাটি জেলাধীন বিভিন্ন ইউনিয়নে ‘সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে’ আওয়ামীলীগের অনেক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিতে না পারার ষড়যন্ত্রমূলক ও ভিত্তিহীন অজুহাত তুলে ধরে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলাধীন ইউপি নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার হীন উদ্দেশ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অজুহাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ গত ২৪ মার্চ ২০১৬ রাঙামাটি শহরে এক তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশের আয়োজন করে। ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন (২৭ এপ্রিল) অতিক্রান্ত হওয়ার পর গত ২৯ এপ্রিল ২০১৬ রাঙামাটি জেলার ৪৯টি ইউপির নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
বস্তুত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন না করায় আওয়ামী লীগ তৃণমূল পর্যায়ে জনসমর্থন হারিয়েছে বলে অনেকের অভিমত রয়েছে। তাদের নেতা-কর্মীরা সেটা বুঝতে পেরে দলীয় নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস না করার কারণে দলীয় প্রতীক (নৌকা মার্কা) নিয়ে অনেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলেন না।

২. রুমায় জনসংহতি সমিতির সমর্থিত এক চেয়ারম্যান প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা
২১ মার্চ ২০১৬ ভোরে বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম গালেংগ্যা ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী ও জনসংহতি সমিতির সদস্য শান্তি ত্রিপুরাকে (৩৫) তার রামদুপাড়া গ্রাম থেকে অপহরণ করে আদিকা পাড়ার কাছে জঙ্গলে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা তার বাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দেয়। শান্তি ত্রিপুরাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করে আওয়ামীলীগের মদদে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জানা যায়।

৩. রোয়াংছড়িতে ৫ জনকে আটক ও মারধর
১৯ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী কানাইজো পাড়া ঘেরাও করে এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদস্য পদপ্রার্থী থোয়াইচিংমং মারমা ও মংবুইশে মারমাকে আটক করে মারধর করে। এছাড়া থোয়াইচিংমং মারমার ৫ জন সমর্থককে আটক করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং থোয়াইচিংমং মারমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করতে চাপ প্রদান করে। পরে তাদেরকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী কর্তৃক জনসংহতি সমিতির সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে একটি সাজানো মামলা দায়ের করা হয়।

৪. নকল ব্যালট পেপারের মাধ্যমে বান্দরবান ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নজীরবিহীন ভোট ডাকাতি
২৩ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত বান্দরবান জেলায় ২৫টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে পূর্ব-পরিকল্পনা অনুসারে শত শত নকল ব্যালট পেপার ছাপিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ তাদের কর্মী ও সমর্থকদের সরবরাহ করে এবং ভোট প্রদানের সময় তারা সেসব নকল ব্যালট পেপারও ব্যালট বাক্সে ঢুকিয়ে দিয়ে ব্যাপকভাবে ভোট জালিয়াতির আশ্রয় নেয়। প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী কাজে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাবৃন্দ কর্তৃক এসব নকল ব্যালট পেপারকে বৈধতা দিয়ে অধিকাংশ ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থীদের অবৈধভাবে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

৫. লামায় আওয়ামীলীগ কর্তৃক পিসিপি সদস্যদের উপর হামলা ও ৪ জনকে মারধর
গত ২৫ এপ্রিল ২০১৬ বান্দরবান জেলার লামা উপজেলাধীন গজালিয়া বাজারে আওয়ামীলীগের লেলিয়ে দেয়া ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা জনসংহতি সমিতি ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সদস্য এবং গজালিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী চচিংমং মারমার পোলিং এজেন্টের উপর হামলা করে। এতে জনসংহতি সমিতির একজন ও পিসিপির দুইজন মোট তিনজন সদস্য গুরুতরভাবে আহত হয়।

৬. বান্দরবানে যুব সমিতির একজন সদস্যকে হত্যা, আরো একজনকে গ্রেফতার
৩১ মে ২০১৬ গভীর রাতে বান্দরবান জেলার কুহালং ইউনিয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির কিবুক পাড়া শাখার তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুনীল চাকমাকে হত্যা করা হয়। তার আগে নির্বাচনী প্রচারণার সময় আওয়ামীলীগ সমর্থকদের সাথে কথা কাটাকাটির ঘটনার জের ধরে আওয়ামীলীগের মদদে এ হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে বলে জানা যায়। এ হত্যাকা-কে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা এবং তার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়ার হীন উদ্দেশ্যে আওয়ামীলীগের যোগসাজশে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে যুব সমিতির তিনজন সদস্যসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে মেইগ্য মারমা নামে যুব সমিতির এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

৭. ভূষণছড়া ইউপির ছোট হরিণা কেন্দ্রে হামলা, ভোট ডাকাতি, ১৯ জন আহত
৪ জুন ২০১৬ ষষ্ঠ তথা শেষ ধাপে অনুষ্ঠিত বরকল উপজেলাধীন ভূষণছড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ছোট হরিণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হরিণা জোনের ২৫ বিজিবির সহায়তায় কেন্দ্র দখল করে আওয়ামীলীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মামুনুর রশিদ মামুনের সমর্থকরা ব্যাপকভাবে জালভোট প্রদান করে। উক্ত কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সময় সকালের দিকে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী মামুনুর রশিদ মামুনের প্রায় ৫০/৬০ জনের মতো একদল বহিরাগত ক্যাডার বিজিবি জওয়ানদের সহায়তায় ছোট হরিনা ভোট কেন্দ্র দখল করে ভূষণছড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী (আনারস প্রতীক) দীলিপ কুমার চাকমার পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় এবং লাইনে দাঁড়ানো পাহাড়ি নারী-পুরুষ ভোটারসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের উপর এলোপাতাড়িভাবে হামলা করে। এতে অন্তত ১৯ জন পাহাড়ি ভোটার আহত হয়। এ সময় প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারের নির্দেশে ভোটকেন্দ্রের ৬টি বুথ থেকে সকল ব্যালটবাক্স তুলে নিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষে জড়ো করা হয় এবং ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের সহায়তায় কয়েক ঘন্টা ধরে মামুনের ক্যাডাররা নৌকা প্রতীকের পক্ষে ব্যাপকভাবে জাল ভোট প্রদান করে থাকে।

১৪ জুন ২০১৬ ভূষণছড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ছোট হরিণা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৫ বিজিবি এর সহায়তায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ কর্তৃক কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে এবং উক্ত কেন্দ্রে পুন:নির্বাচনের দাবিতে সড়ক ও জলপথ অবরোধ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চলাকালে বিলাইছড়ি উপজেলার দীঘলছড়ি সেনা জোনের একদল সেনাসদস্য বিলাইছড়ি উপজেলা সদর হতে পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) এর ৪ কর্মীকে আটক করে। জনগণের চাপের মুখে আটকের প্রায় দুই ঘন্টা পর পুলিশ ৩ জনকে ছেড়ে দিলেও সুনীতিময় চাকমা নামে পিসিপির এক সদস্যকে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়।

৮. বান্দরবানে জনসংহতি সমিতির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ৬ জনকে গ্রেফতার
১৩ জুন ২০১৬ বান্দরবান সদর উপজেলার রাজভিলা ইউনিয়নের জামছড়ি মুখ গ্রামের অধিবাসী ও আওয়ামীলীগের সদস্য মংপু মারমাকে কে বা কারা অপহরণ করে থাকে এবং এ অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও সেনাপ্রশাসনের সাথে যোগসাজশে স্থানীয় আওয়ামীলীগ জনসংহতি সমিতি, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও যুব সমিতির নেতাকর্মী ও নিরীহ গ্রামবাসীর ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০ জনের বিরুদ্ধে গণহারে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এব্যাপারে এ পর্যন্ত জনসংহতি সমিতির বান্দরবান সদর থানা কমিটির সভাপতি উচসিং মারমাসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইদিন পর একজনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে অপহৃতকে উদ্ধারের নামে ও আসামীদের গ্রেফতারের নামে রাজভিলা, কুহালং, নোয়াপতং, বান্দরবান সদরে আওয়ামীলীগ কর্মীদের নিয়ে সেনা-পুলিশের সদস্যরা নিয়মিত তল্লাশী অভিযান চালিয়ে আসছে। এতে করে এলাকায় এক নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং হয়রানির শিকার জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। জনসংহতি সমিতি ও এর সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও হয়রানি এড়ানোর জন্য এলাকা ছাড়া হতে বাধ্য হয়েছে।

জানা যায় যে, ঘটনার পরদিন ১৪ জুন ২০১৬ আওয়ামীলীগের বান্দরবান জেলার সভাপতি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা মারমা অপহৃত মংপু মারমার স্ত্রী সামাপ্রু মারমাসহ তাঁর কয়েকজন আত্মীয়কে বান্দরবান সদরে ডেকে নেন এবং আগে থেকে লিখে রাখা এজাহারে স্বাক্ষর করতে মংপু মারমার স্ত্রীকে বলা হয়। মামলার তালিকায় তাঁর এক মেয়ের জামাইয়ের নাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কেএসমং মারমা ও সাধুরাম ত্রিপুরা, রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যবামং মারমা, প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান শম্ভু কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, জনসংহতি সমিতির জেলা সভাপতি উছোমং মারমাসহ অন্যান্য পরিচিতদের নাম শুনে এবং যেহেতু তারা নিরপরাধ বা ঐ ঘটনার সাথে জড়িত নয়, তাই মংপুর স্ত্রী সামাপ্রু মারমা ঐ মামলার বাদী হতে অস্বীকার করেন। বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ক্যশৈহ্লা মারমা ও অপহৃত মংপু মারমা-এর মধ্যকার ক্ষমতার ভাগাভাগি ও দ্বন্দ্বের কারণে মংপু মারমা অপহরণের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আর সেটাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জনসংহতি সমিতির সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে রাজনৈতিক হয়রানি করা হচ্ছে।

৯. বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের সভায় জনসংহতি সমিতিকে নিশ্চিহ্নকরণের সিদ্ধান্ত
৩ জুলাই ২০১৬ বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের জরুরী এক মিটিঙে তথাকথিত চাঁদাবাজি, খুন, গুমের নামে জনসংহতি সমিতির নেতাকর্মীদের উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আওয়ামীলীগের বান্দরবান জেলা নেতা এ কে এম জাহাঙ্গীরের ফেসবুকের স্টাটাসে উক্ত সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়। উক্ত ফেসবুকে জনসংহতি সমিতি ও পিসিপির নেতা কর্মীদের শায়েস্তা করা হবে এবং কাউকে আর ছাড় দেয়া হবে না মর্মে সভাপতি ক্যশৈহ্লা ঘোষণা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জনসংহতি সমিতির নেতৃবৃন্দের সামনে ‘কেএস মং মারমাসহ জেএসএস নেতৃবৃন্দকে ছাড় দেয়া হবে না’ বলে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও এমপি বীর বাহাদুর উশৈসিংও প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিন্ত্রীর মর্যাদায় দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে বীর বাহাদুরের এধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অপরিনামদর্শী বক্তব্য কখনোই শুভ ফল বয়ে আনতে পারে না।
আশু করণীয়
জনসংহতি সমিতি ও এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও প্রশাসনের ষড়যন্ত্র, ফ্যাসীবাদী দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক হয়রানির মূল উদ্দেশ্যই হলো বর্তমান সরকার কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন না করায় ক্ষমতাসীন দলের প্রতি জনমানুষের ক্ষোভ এবং অসন্তোষকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা। এভাবে সরকারি মহলের ফ্যাসীবাদী তৎপরতা চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরো জটিল থেকে জটিলতর হতে বাধ্য। তার ফলে যে কোন অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির জন্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের জেলা সভপতি ক্যশৈহ্লা সহ আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতৃত্ব ও প্রশাসনই দায়ী থাকবে, যা কখনোই কাম্য হতে পারে না। তাই অচিরেই জনসংহতি সমিতি ও এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে এধরনের ষড়যন্ত্র, ফ্যাসীবাদী দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করা হোক এবং তাদের বিরুদ্ধে আনীত সাজানো ও ভিত্তিহীন মামলা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার হোক। মংপু মারমাকে অপহরণের ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে তাকে উদ্ধারের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
পরিশেষে প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং সহ বান্দরবান পার্বত্য জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব কর্তৃক বান্দরবানে যে সংকটজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে তা যথাযথ ও দ্রুত নিরসনের লক্ষ্যে জনসংহতি সমিতি আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

Print Friendly, PDF & Email

Share This:

খবরটি 384 বার পঠিত হয়েছে


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

ChtToday DOT COMschliessen
oeffnen