শিরোনামঃ

রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়ার পুরস্কার বিতরণী এবং অভিভাবক সমাবেশ

সরকারের উন্নয়ন আঞ্চলিক দলগুলোর সহ্য হয় না: বৃষ কেতু চাকমা

সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। পার্বত্য অঞ্চল থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে অভিভাবক-শিক্ষক’সহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। তিনি বলেন, সমতল এলাকার চাইতে পার্বত্য জেলাগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক’সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। অন্য জেলা থেকে চিকিৎসক, বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা পার্বত্য জেলাগুলোতে বদলি হয়ে আসলেও বছর দু-তিন বছর থেকে বেশীদিন থাকতে চায় না। প্রশিক্ষন বা কোননা কোন কারন দেখিয়ে তারা এখান থেকে চলে যায়। ফলে এখানকার মানুষ শতভাগ সুফল পায় না। তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করে এ জেলা থেকেই যদি মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে তোলা যায় তারাই একদিন চিকিৎসক, বড় কর্মকর্তা, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের করে বড় ব্যবসায়ী হয়ে নিজ জেলায় থেকে জনগনের সেবা দিতে পারবে। সে লক্ষ্যেকে সামনে রেখে অভিভাবক ও শিক্ষকদের তাদের সন্তানদের সেভাবে প্রস্তুুত করার পরামর্শ দেন চেয়ারম্যান।
শনিবার (২৪মার্চ) সকালে রাঙামাটির রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া, একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী এবং অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিষদ চেয়ারম্যান একথা বলেন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, রাঙামাটি পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ তাছাদ্দিক হোসেন কবির, শহীদ আব্দুল আলী একাডেমী স্কুলের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মধু চন্দ্র চাকমা, রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সনৎ কুমার বড়–য়া’সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনতোষ মল্লিক।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আক্ষেপ করে বলেন, সরকারের এ উন্নয়নে অনেকের চোখ জ্বালা পোড়া করছে। বিশেষ করে এখানকার আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর। কোন প্রতিষ্ঠানে পরিষদ হতে চেয়ারম্যান বা সদস্যকে আমন্ত্রন করা হলে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের নেতারা সে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করা হয় পরিষদের কাউকে নিমন্ত্রন না জানানোর জন্য। বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক ও চুক্তি বিরোধী। তিনি আরো বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি প্রতিষ্ঠায় আওয়ামীলীগ সরকার ও এখানকার আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতির সাথে ১৯৯৭ সালে শান্তিু চুক্তি হয় এবং চুক্তি অনুযায়ী জেলা পরিষদ গঠন হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ’সহ বিভিন্ন বিভাগ পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত হয়। সে অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি’সহ জেলার সার্বিক উন্নয়নে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো কাজ করে যাচ্ছে। এ উন্নয়নে যারাই বাঁধাগ্রস্থ করছে তাদের বিচার একদিন জনগনই করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সরকার পার্বত্যবাসির প্রতি খুবই আন্তরিক। পার্বত্যবাসীর সার্বিক উন্নয়নে যে কোন প্রকল্পের কথা উপস্থাপন করলে তিনি তা একমত প্রকাশ করেন এবং অনুমোদন দিয়ে দেন। পার্বত্য জেলার উন্নয়নে নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মান, সংস্কার’সহ যা যা করা প্রয়োজন বর্তমান সরকার করছে। এখানকার নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের তাদের স্ব স্ব ভাষায় শিক্ষা গ্রহনের জন্য সরকার পাঠ্যবই বিতরণ করছে এবং নৃ-গোষ্ঠী ভাষা ও অক্ষরে শিক্ষা দানের জন্য জেলা পরিষদ কর্তৃক শিক্ষকদের প্রশিক্ষন প্রদান করেছে যা আগামীতেও করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, মানসম্মত শিক্ষা ব্যাবস্থা উপর শিক্ষকদের আরো বেশী গুরুত্ব দিতে হবে। স্কুলের কোন শিক্ষার্থী যদি এসএসসি টেষ্ট পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ করে তার জন্য কোন সুপারিশ গ্রহণ না করারও পরামর্শ দেন তিনি। আগামীতে ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে প্রয়োজনে শিক্ষক, অভিভাবক ও এসএমসি কমিটির সহিত মতবিনিময়সভা করা হবে।
জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশে বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও তোমাদের প্রতিভাকে বিকশিত করতে হবে। যে প্রতিভা এ অনুষ্ঠানে তোমরা উপস্থাপন করেছো এটিকে ধরে রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, এ স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী আজ এই স্কুলের শিক্ষক ও এ জেলার মেয়র এটি খুবই গর্বের বিষয়। তাদের ন্যয় তোমরা নিজেদেরকে সেভাবে গড়ে তোলো যাতে আগামীতে এদের চাইতে বড় পর্যায়ে নিজেকে নিয়ে যেতে পারো। আগামীতে তোমরাই এ জেলা তথা দেশকে এগিয়ে নিতে যেতে হবে।
পরে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী স্কুলের শিক্ষার্থী, শ্রেষ্ঠ শিক্ষদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এর আগে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Share This:

খবরটি 213 বার পঠিত হয়েছে


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

ChtToday DOT COMschliessen
oeffnen