শিরোনামঃ

শংখ নদীর বুকে ধুধু বালির চড়

শংখ নদীর উপর ব্রীজ নির্মিত হলে পাল্টে যাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা

সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। চট্টগ্রাম জেলার দক্ষিণ পূর্ব বান্দরবান সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত চন্দনাইশ উপজেলা। চন্দনাইশ উপজেলার একেবারে প্রত্যন্ত ও অবহেলিত একটি জনপদ ধোপাছড়ি। শংখ নদীর উত্তর কূলে ধোপাছড়ি ইউনিয়ন আর দক্ষিণ কূলে পুরানগড় তথা সীমান্ত সাতকানিয়া উপজেলা। দৃষ্টি নন্দন আর সুন্দর্য্যের লীলাভূমি শংখ নদী।

Exif_JPEG_420

বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর চ্যানেল হয়ে শংখ নদীর দৃষ্টি বললেই চলে। তাই শংখ নদীর উপর দিয়ে ব্রীজ নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি, কিন্তু এই দাবিটি এখনো সুনজরে আনেননি জনপ্রতিনিধিরা অথচ একটি ব্রীজ পাল্টে দিতে পারে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,বিশাল শংখ নদীর বুকে বোরো ধানের চাষসহ ওই এলাকার কচিকাচা কোমলমতি শিশুরা ফুটবল খেলছে। আবার কেউ কেউ শংখ নদীতে মৌসুমী ফসল ফলাতে দেখা গেছে। শংখ নদীকে বাচানোর আতœনাদ যেন শুনতে পাচ্ছে না স্থানীয় মানুষগুলো। অন্য দিকে চন্দনাইশ উপজেলাধীন ধোপাছড়ি সংলগ্ন ৪ ইউনিয়নের মানুষ প্রতিনিয়ত ধোপাছড়ি বাজার সংলগ্ন নদী পারাপার ঘাট ভোগান্তির মাইল ফলক হিসেবে পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে এ সব এলাকার মানুষগুলোর কষ্টের সীমা থাকেনা। তার পরও জীবন সংগ্রামে জীবনবাজি রেখে কেউ বা জীবিকা নির্বাহে আবার কেউ বা স্কুল কলেজে যাচ্ছে এই শংখ নদী পাড় হয়ে।
ভুক্তভোগিরা জানান,শংখ নদীর কাছে ধোপাছড়ি ও আশ পাশের এলাকায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এলাকাটি সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিতি লাভ করার সম্ভাবনা রয়েছে। শংখ নদীর উপর ব্রীজ হলে পাল্টে যাবে ধোপাছড়ির চেহারা। এগিয়ে যাবে যাতায়াতের একধাপ। দুঃখ আর হতাশা কপাল থেকে মুছে যাবে দুঃখি মানুষগুলোর। তারা জানান,ধোপাছড়ি বাজার সংলগ্ন শংখ নদীর উপর ব্রীজ না হয়ে সেটি নাকি হচ্ছে দোহাজারি এবং পুরানগড় ইউনিয়নের ছৌকিদার ফাঁড়ি নামক জায়গায়। যা জনকল্যাণে আসবে না। এনিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি দেখা দিয়েছে।
পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ ফ ম মাহবুবুল আলম সিকদার জানান, দোহাজারি এবং পুরানগড় ইউনিয়নের ছৌকিদার ফাঁড়ি শংখ নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণ প্রস্তাব অনেক আগে পাঠানো হয়েছে শুনেছি সম্প্রতি এ ব্রীজটি নাকি একনেক পাশ করেছেন। এদিক দিয়ে ব্রীজ হলে ৪ ইউনিয়নের লোকজন দ্রুতগতিতে দোহাজারি হয়ে চট্টগ্রাম যেতে পারবে। এর সাথে সাথে উন্নয়ন হবে দোহাজারিসহ আওতাধীন এলাকা।
ধোপাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোর্শেদুল আলম জানান,ধোপাছড়ি সংলগ্ন বাজার শংখ নদী পারাপার এর ঘাট দিয়ে ধোপাছড়ি ইউনিয়ন,কুহালং ইউনিয়ন,পুরানগড় ইউনিয়ন ও বাজালিয়া ইউনিয়নসহ অধিকাংশ লোকজন চলাচল করে ।এই এলাকার লোকজনের গণদাবি ছিল উন্নত যাতায়াতের ক্ষেত্রে ও ধোপাছড়ি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের নজরদারি রয়েছে। যা আগামী দিনে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ধোপাছড়ির ব্যাপারে এ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরীর যথেষ্ট আন্তরিকতা রয়েছে।

ধোপাছড়ি ইউনিয়ন ১নংওয়ার্ডের মেম্বার ও আওয়ামী যুবলীগ নেতা মো.আবু রাশেদ জানান,এ সরকার উন্নয়নে বিশ^াসী বিগত দিনের সরকার যা করতে পারেনি এ সরকার তা করেছেন। আওয়ামীলীগ তথা শেখ হাসিনার সরকার যা বলে তা করে। পুরানগড় ইউনিয়নের ছৌকিদার ফাঁড়ি শংখ নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণ না করে সেটি যদি ধোপাছড়ি বাজার সংলগ্ন শংখ নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণ করা হয় তা হলে এ এলাকার মানুষ অনেক উন্নত হতো।অন্য দিকে যাতায়াতের পথ আরো সুদূর ও সুগম হতো।

Exif_JPEG_420

ধোপাছড়ি এলাকার প্রবীণ সমাজসেবক ও বিশিষ্ট মুরব্বি আলহাজ্ব ডা.মীর আহম্মদ জানান,শংখ নদীর উপর ব্রীজ ও ধোপাছড়ি খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ দাবিটি অনেক পুরাতন যুক্তি সংগত। তবে লোকের মূখে শুনেছি ধোপাছড়ি খালের উপরে ব্রীজটি ৬কোটি টাকা একনেকে পাশ হয়েছে। আর ছৌকিদার ফাঁড়ি শংখ নদীর উপর ব্রীজটি ও নাকি পাশ হয়েছে। ব্রীজাটি হওয়ার কথা ধোপাছড়ি বাজার সংলগ্ন শংখ নদীর উপর আর এখন ওই ব্রীজটি হচ্ছে ছৌকিদার ফাঁড়ি। তবে ওইখানে ব্রীজ হলে জনকল্যাণে আসবে কি না সেটা ব্রীজ হওয়ার আগে কর্তা ব্যক্তিদের একটু চিন্তা ভাবনা করা উচিত ছিল।

Print Friendly, PDF & Email

Share This:

খবরটি 157 বার পঠিত হয়েছে


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

ChtToday DOT COMschliessen
oeffnen