শিরোনামঃ

রাঙামাটি পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই হবে ত্রি-মুখী

সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। আগামী পরশু ৩০ ডিসেম্বর রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে মেয়র ও কাউন্সিলার প্রার্থীরা শেষ মুর্হতে জোরে সোরে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ মধ্যরাতে প্রচারনা বন্ধ হয়ে যাবে। ধারনা করা হচ্ছে শেষ মুহুর্তে এসে মেয়র পদে লড়াই ত্রি-মুখী।Rangamati copy
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে তত উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা বাড়ছে। রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ী ছিনিয়ে নেয়ার জন্য শেষবারের মত ভোটারদের ধারে ধারে ঘুরছেন মেয়র ও কাউন্সিলার প্রার্থীরা, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। প্রার্থীরা পাহাড়, উচু, নিচু আকা বাকা পাহাড়ী পথ বেয়ে নির্ঘুম প্রচারনা চালাচ্ছেন। ভোটারদের বাড়ী গিয়ে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। রাঙামাটি পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হাবিবুর রহমান গত ২২ ডিসেম্বর এবং ২৫ ডিসেম্বর অমর কুমার দে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান। তবে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রবিউল আলম রবি স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। এবার রাঙামাটি পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ৫জন, সাধারন কাউন্সিলার ৩৯জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলার পদে ৭জন নারী অংশগ্রহন করছে । তবে মেয়র পদে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী ২ প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোয় লড়াই হবে ত্রি-মুখী। নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী আকবর হোসেন চৌধুরী (নৌকা) বিএনপির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো (ধানের শীষ) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সমর্থিত ডা. গঙ্গামানিক চাকমার (নারিকেল গাছ), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রবিউল আলম রবি (কম্পিউটার) এবং ডা. শিব প্রসাদ মিশ্র (লাঙ্গল) অংশ নিচ্ছে।
দুই দলের অস্তিত্বের লড়াই: পৌর নির্বাচন প্রধান দুই দল আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির মধ্যে মর্যাদা ও অস্তিত্বের লড়াই। একদিকে ২০১১ সনে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পরাজয়ের পর ইউনিয়ন এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও জনসংহতি সমিতির কাছে হেরে যায়। রাঙামাটিতে পরাজয়ে দৃশ্যত বেকায়দায় পড়ে যায় আওয়ামী লীগ। ফলে ক্ষমতায় থেকেও ক্ষমতাহীন থাকার এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয় দেশের প্রধান এই দলটি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে দলটির জন্য যেমন বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে তেমনি জাতীয়ভাবেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে স্থানীয় নেতাদের সক্ষমতা ও যোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ফলে এবার আর ঝুঁকি নিতে চায় না দলটি। এবারও যদি পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরে যায় তাহলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটিতে দলের শীর্ষ নেতা ‘দাদা’ দীপংকরের মনোনয়ন ঝুলে যেতে পারে। তাই অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার জয়ের জন্য মরিয়া দলটি, যেকোনো মূল্যেই জয় চায় তারা। ইতিমধ্যে নানা চাপ তৈরি করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরে যেতে বাধ্য করেছে। তাছাড়া দলের প্রার্থী আকবর হোসেন চৌধুরী স্থানীয় আওয়ামীলীগের সিনিয়র কিছু নেতৃবৃন্দের বিরোধীতার মুখে কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন পত্র নিয়ে আসেন। তাই নির্বাচনে জিতাটাও ব্যাক্তি আকবরের জন্য জরুরী। দল এবং ব্যাক্তি আকবর দুটো মিলিয়ে নির্বাচনে জিততে মরিয়া আওয়ামীলীগ।

রাঙামাটি পৌরসভার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২০১১ সালে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদটি পায় বিএনপি। কিন্তু সরকারি দলের অসহযোগিতার কারণে বিপাকে পড়ে মেয়র সাইফুল ইসলাম ভুট্টো। তেমন কোন উন্নয়ন কাজ করতে পারেননি। তবে এবছরের শেষদিকে ১৬ কোটি টাকার ইউজিবি প্রকল্পের উন্নয়ন টেন্ডারসহ প্রায় ১শ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছেন। এতে তার বিপুল অংকের টাকাও খরচ হয়। যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো তিনি এনেছেন সেগুলো বাস্তবায়ন করতে তিনি আরেক মেয়াদ মেয়র হতে চান। দলটিতে নানা বিভক্তি থাকলেও সর্বশেষ জেলা সম্মেলনে দলের সভাপতি দীপেন দেওয়ানের পরাজয় তাঁকে রাজনীতিতে দৃশ্যত নাই করে দেওয়ার পর যে ঐক্যবদ্ধ বিএনপির নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নিয়েছে তাদের জন্য মর্যাদার এক লড়াই এই পৌর নির্বাচন।
কারণ নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই প্রথম স্থানীয় সরকার নির্বাচন, যাতে বিজয়ী হওয়াটা জরুরি। যদিও তাদের জন্য বিপদ হয়েই আছেন দীপেন অনুসারী রবিউল আলম রবির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে থেকে যাওয়াটা। সভাপতি পদ হারানো দীপেন দেওয়ান ধানের শীষের পক্ষে মাঠে থাকলেও তাঁর অনুসারী হিসেবে পরিচিত, বিদ্রোহী প্রার্থী রবিউল আলম রবির পক্ষে মাঠে সক্রিয় তাঁর অনুসারীরা। দীপেন অনুসারীরা তাঁদের পরাজয়ের ক্ষত এখনো না ভোলায় তাঁরাও চাইছেন যে কোনো মূল্যে নতুন নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। যদিও এই বিষয়ে সতর্ক বিএনপির নতুন নেতৃত্বও। তারাও জয়ের জন্য মরিয়া। এবারের ভোটকে নিজেদের মর্যাদার লড়াই হিসেবে মানছে বিএনপি। সব মিলিয়ে মেয়র পদটি ধরে রাখতে বিএনপি এখন মরিয়া।

এদিকে সংসদ নির্বাচনের পর সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলার অধিকাংশ উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ের পর এবার রাঙামাটি পৌর নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। দলের সমর্থিত প্রার্থী ডা. গঙ্গা মানিক চাকমা ভদ্র ও অমায়িক হলেও পৌর এলাকায় বাঙ্গালী ভোটার বেশী। সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে দলটির বিরুদ্ধে ভোটারদের চাপ প্রয়োগের অভিযোগ থাকলেও পৌর নির্বাচনে দলটি কি করে সেটি দেখার বিষয়।
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত না হওয়ায় দলটির প্রার্থী যদিও স্বতন্ত্র প্রার্থী কিন্তু সংসদ নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনকে বেশ গুরুত্ব সহকারেই নিয়েছে জেএসএস। দলটির নেতারা মনে করছে, উপজেলা, সংসদ নির্বাচনে জনরায় পাওয়ার পর দলটি যদি পৌরসভায়ও নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারে, তবে নিজেদের প্রতি শতভাগ জনসমর্থনের প্রমাণ যেমন সরকারকে দেখাতে পারবে, একইভাবে স্থানীয় সরকারের এই জয়কে কাজে লাগিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনেও বাড়তি সুবিধা নিতে পারবে দলটির কর্মীরা।
নির্বাচনে মেয়র পদে ৫জন প্রার্থী থাকলেও জাপা প্রার্থীকে কেউ তেমন আমলে নিচ্ছে না। তবে ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রবিউল আলম রবি (কম্পিউটার)। নির্বাচনে হাবিব এবং রবির ভোট ব্যাংক একই তাই নির্বাচন থেকে আওয়ামীলীগের বিদ্রেহিী প্রার্থী হাবিব সরে দাড়ালেও তার ভোট দলীয় প্রার্থীর পক্ষে যায় নাকি রবি বা বিএনপির ভুট্টো পায় সেটি এখন দেখার বিষয়।

এদিকে কাউন্সিলার ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলার পদে পরস্পর বিরোধী অভিযোগ না থাকলেও ৭নং ওয়ার্ডে রয়েছে অভিযোগ। কাউন্সিলার পদে ক্ষমতাসীনদলের কোন প্রার্থী না থাকলেও সদর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জামালউদ্দিন ও জেলা যুবলীগ নেতা ও সাংবাদিক মনছুর আহম্মেদ নির্বাচন করছেন। দলীয় কোন প্রার্থী না দিলেও পৌর আওয়ামীলীগের এক নেতা ও ছাত্রলীগের একাংশ মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনায় না নেমে জামালউদ্দিনের পক্ষে প্রচারনায় নেমেছে। ধারনা করা হচ্ছে এই ওয়ার্ডে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জামালউদ্দিন, যুবলীগের নেতা মনসুর আহম্মদ এবং জামাত নেতা ও শিক্ষক মনসুর আহমদের সাথে ত্রি-মুখী লড়াই হবে। এই ওয়ার্ডে কালো টাকার ছড়াছড়ির অভিযোগ করেছে প্রার্থীরা। কালো টাকার ছড়াছড়ির অভিযোগ এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে। প্রার্থীরা ভোটের আগেরদিন রাতে এই ওয়ার্ডে কালো টাকার ছড়াছড়ি হতে পারে এমন আশংকা করে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পৌর এলাকার বাসিন্দা নয় এমন লোকের সংখ্যা বেড়ে গেছে।

৬৪.৪৮ বর্গকিলোমিটারের পৌরসভাটি ১৯৭২ সনে প্রতিষ্ঠিত হয়। মোট ভোটারের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৩শ ৯৭জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩২ হাজার ১শ৬৯জন এবং মহিলা ২২ হাজার ২শ ২৮জন। মোট ভোট কেন্দ্র ২৮টি। সব কয়টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপুর্ন বলছে প্রশাসন।

Print Friendly, PDF & Email

Share This:

খবরটি 269 বার পঠিত হয়েছে


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

ChtToday DOT COMschliessen
oeffnen