শিরোনামঃ

পাহাড়ে পর্যটনের সমস্যা ও সম্ভাবনার রূপরেখা : সমির মল্লিক

বিস্তৃত সংরক্ষিত বনাঞ্চল,উপতাক্য,ঝর্ণা,নদী,পাহাড়ী ঝিরি,সর্পিল পথ,উচুঁ পাহাড় আর বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ নিয়েই বৈচিত্র্যময় পার্বত্য চট্টগ্রাম। ভারত আর মিয়ানমারের সীমান্তঘেষা বিশাল এই বনাঞ্চল এবং পাহাড় আর সমতল ভূমি নিয়ে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি এবং বান্দরবান পার্বত্য অঞ্চল। আয়তনে দেশের প্রায় এক দশমাংশ।
চাকমা,মারমা,ত্রিপুরা,বম,মুৃরুং,খুমিসহ প্রায় ১৪টি জাতি গোষ্ঠীর বসবাস এখানে। এসব মানুষের জীবন সংগ্রাম কৃষ্টি সংস্কতির বৈচিত্র্য পাহাড়ের ডানায় যুক্ত করেছে নতুন পর্যটন সম্ভাবনার। ঘন সবুজ মেঘে ঢাকা পাহাড়, ঝর্ণা ঝিরি বৃহৎ পাহাড়ী অঞ্চল বাংলাদেশের পর্যটনের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত। বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের পর্র্যটন খাতে এক বৃহৎ সম্ভাবনা থাকলেও, এখনো এই খাতের তেমন কোন উন্নতি হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আলাদা মন্ত্রণালয় থাকলেও অদ্যবধি পাহাড়ের পর্যটন প্রশ্নে কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, দিকনির্দেশনা কোন কিছুই নেই।

অভিভাবকহীন পাহাড়ের পর্যটন:
স্বাধীনতার পর পার্বত্যাঞ্চলের তিন জেলা দেশের অন্যান্য জেলার সাথে উন্নয়নে এগোতে পারেনি। কাপ্তাই বাঁধকে কেন্দ্র করে ভূমি উচ্ছেদ,শরণার্থী হয়ে দেশান্তরী হওয়া, আঞ্চলিক দাবী দাওয়ার আদায়ে গড়ে উঠে দলগুলোর সাথে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর স্বশস্ত্র লড়াই ইত্যাদি কারণেই দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রের সাথে মুখোমুখি যুদ্ধে অবর্তীণ হয় আদিবাসীদের প্রেক্ষাপট। কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় ১৯৯৭ সালে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস নেতৃত্বাধীন শান্তি বাহিনীর সাথে চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে স্বস্তি ফিরে আসে। কার্যত এই শতকের শুরু থেকে পাহাড় স্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠে। যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হওয়ায় পাহাড়ে বিভিন্ন জায়গায় নতুন নতুন সড়ক হয়েছে, মানুষের যাতায়াত বেড়েছে। পাহাড়ে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্রিক বিভিন্ন আর্কষণীয় স্থান। মূলত বেসরকারি উদ্যোগে এসব পর্যটন স্থান গড়ে উঠেছে। শান্তি চুক্তির পর ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও পাহাড়ের পর্যটন নিয়ে কোন নীতিমালা প্রণীত হয়নি। শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত আট বছরে পর্যটনসহ মোট ১২টি বিভাগ জেলা পরিষদের কাছে ন্যস্ত করা হয়। কিন্তু জেলা পরিষদ থেকে সর্বশেষ প্রকাশিত ‘দিন বদলের অগ্রযাত্রায় খাগড়াছড়ি’ শীর্ষক পুস্তিকায় খাগড়াছড়ি পর্যটন পরিকল্পনা নিয়ে কোন বাক্যই খরচ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। বরাবরই পাহাড়ে পর্যটন বিষয়টি উপেক্ষিত থেকেছে। যার নিদারুণ ফল হিসেবে পর্যটনকে কেন্দ্র করে যেভাবে শিল্প হিসেবে গড়ে উঠা দরকার তার সিকি ভাগ প্রস্তুতিও নেই।

পর্যটন শিল্প কেন দরকার?
বতর্মান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে পযর্টন এক গুরত্বপূর্ণ শিল্প। এর ব্যাপ্তি কেবল স্থানীয় অর্থনীতিতে নয়, জাতীয় অর্থনীতির ভীত নির্মাণে পর্যটনের গুরুত্ব অধিক। বিশ্বের অনেক শহর, নগর এমনকি দেশও সিংহভাগ পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ নেপাল আামাদের সবচেয়ে কাছের উদাহরণ। ভারত,শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ব্রাজিল, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশের অর্থনীতির দ্বিতীয় বা তৃতীয় খাতই পর্যটন। আমাদের দেশেও পাহাড়কে কেন্দ্র করে যে পর্যটন সম্ভাবনা আছে তাকে কাজে লাগাতে পারলে ফলপ্রসূ হতো। কিন্তু সারাদেশের মত পাহাড়ে পর্যটনও উপেক্ষিত ছিল। অবহেলিত অবকাঠামো, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি পাহাড়ে ঘুরে ফিরে আসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বিষয়টি। পার্বত্যাঞ্চলের রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রভাব দেশের অন্য অংশের অধিকতর প্রকট। নিরাপত্তার শঙ্কায় পাহাড়ে দেশের অন্য অংশের তুলনায় অধিকতর সম্ভাবনা সত্ত্বেও পর্যটন বিকশিত হয়নি।
এক সময় দেশের অন্য অংশের মত কৃষিজ, বনজ অর্থনীতি ছিল পার্বত্যাঞ্চলের মূল চালিকা। পরিবর্তিত বৈশি^ক ও জাতীয় প্রেক্ষাটে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন জরুরী । পাহাড় এবং জুম চাষ কেন্দ্রিক বৃত্ত থেকে বের হতে না পারলে বিকাশমান অর্থনৈতিক গতির সাথে তাল মেলানো যাবে না। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ছাড়া কখনো এই বৃহৎ বিস্তৃত খাতের অগ্রযাত্রা সম্ভব না। সরকারি উদ্যোগ ছাড়া পার্বত্যাঞ্চলের সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পকে দেশী-বিদেশী পযর্টকদের কাছে জনপ্রিয় করে তোলা যাবে না। বাংলাদেশে যে সংখ্যক বিদেশী পর্যটক বেড়াতে আসে তার সিকি ভাগ আসে পার্বত্য চট্টগ্রামে। বিদেশী পযর্টকদের পার্বত্য এলাকায় প্রবেশে আইনী জটিলতা হ্রাস, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে এই কাজে সম্পৃক্ত করতে না পারায় বিদেশীদের কাছে পার্বত্যাঞ্চল কখনোই জনপ্রিয় হয়নি। পর্যটনকে শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে জাতীয় অগ্রযাত্রা অনেকাংশ ব্যাহত হবে।

পর্যটনের ধরন কি হাওয়া উচিত:
পর্যটন খুবই সংবেদনশীল খাত। এর মাধ্যমে খুব সহজেই একটি দেশের বা অঞ্চলের সংস্কৃতি অন্য দেশের বা অঞ্চলের মানুষের মাঝে বিনিময়ের সেতুবন্ধন করে দেয়। যা একটি জাতিগোষ্ঠীকেও প্রবাহিত করতে পারে। বিশে^ও অনেক জায়গায় পর্যটন নির্ভর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পর্যটকদের জীবন ধারা, পোশাক পরিচ্ছদ, সংস্কৃতি স্থানীয় অধিবাসীদের সংস্কৃতি গ্রাস করেছে। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকলে পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জীবন-সংস্কৃতির উপর এর প্রভাব পরবে। তাই বিশ্বব্যাপী পর্যটন অনেকটা এখন ইকো ট্যুরিজম বা প্রকৃতি বান্ধব। ক্রমাগত জলবায়ূ এবং আবহাওয়া পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাব ও বর্ধিত জনসংখ্যার চাপে বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রকৃতি ও প্রাণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করছে। তাছাড়া মানুষ ক্রমাগত বন ধ্বংস, পাহাড়ী ঝিরি থেকে পানি উত্তোলন,অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে প্রকৃতির বিপুল ক্ষতি করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তৃত বনাঞ্চল, বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী, ¯্রােতস্বিনী নদী থাকলেও বর্তমানে তার ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বিপন্ন হওয়ার পথে। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল প্রকৃতি কেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলঅ। তাছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং বিকশিত করা একইসাথে সামাজিক রীতিনীতি,আইন-প্রথা, জীবনধারা, সামাজিক আচরণ রীতি পদ্ধতিকে ব্যাহত করে এমন কোন উদ্যোগ থেকে বিরত থাকা ।

পথ দেখাতে পারে ইকো বা প্রকৃতি বান্ধব ট্যুরিজম:
পাহাড়ের সুন্দরবন বলা হয় পাবলাখালী অভয়ারণ্যকে। আয়তনে (৪২০৮৭ হেক্টর প্রায়) বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। চিরহরিৎ এই বনে একসময় পর্যটকের আগমন ছিল চোখের পরার মতই। বন বিভাগের হিসাব মতে, প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক পর্যটক এখানে আসে। বন বিভাগের ২০০৭ সালের রের্কড অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার পর্যটক পাবলাখালীতে বেড়াতে আসে। তবে প্রকৃতি ঘেরা এই ঘন বনাঞ্চল এখন প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। একসময় ১৮৩ প্রজাতির পাখি, ৭৬ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীসহ উভয়চর প্রাণী থাকলেও আজ তা বিলুপ্তির পথে। বিরল প্রজাতির সাম্বার হরিণ, মায়া হরিণ এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান হলেও আজ তা বিলুপ্তপ্রায়। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার্থে জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা অত্যাধিক। কিন্তু পাবলাখালীর মত পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ অবহেলায় এখন বিলুপ্তি পথে। পাবলাখালী অভয়ারণ্য পাহাড়ের বন ধ্বংসের একমাত্র উদাহরণ নয়,কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, সাগু আর কর্ণফুলীর মোহনায় অবস্থিত বিভিন্ন অরণ্যভূমির একই অবস্থা । প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে দায়িত্বশীল পযর্টন শিল্প গড়তে ব্যর্থ হওয়ায় তা ক্রমাগত ধ্বংসের পথে। প্রতি বছর বনভূমি ধ্বংস করে হাজার হাজার বৃক্ষ উজাড় হচ্ছে। মানবসৃষ্ট এসব প্রাকৃতিক দূর্যোগ পাহাড়ী বনাঞ্চলের ওপর মারাত্মক প্রভাব তৈরি করবে। গহীন অরণ্যেও এখন চোখে পড়ার মত বড় বৃক্ষের সন্ধান পাওয়া যায় না। তার সবচেয়ে বড় প্রভাব স্থানীয় আদিবাসী, বনের জীব বৈচিত্র্যের ওপর ।
তাছাড়া প্রাকৃতিক স্থান সমূহ: ঝর্ণা, লেক, পাহাড়ের চূড়া, পাহাড়ী ট্রেইল (পযর্টকদের চলার পথ)ইত্যাদি মানুষের ব্যবহত পানির বোতল, প্লাস্টিক সামগ্রী ও পলিথিনের মোড়কের মতো অপচনশীল বর্জ্যে দিন দিন ময়লা আবর্জনার বাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। তাই ইকো ট্যুরিজমের বিকাশে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরী।

বিকাশিত হতে পারে সংস্কৃতির প্রতি সংবেদনশীল বা কালচার ট্যুরিজম :
পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রাকৃতিকভাবে যেমন বৈচিত্র্যপূর্ণ তেমনি সেখানে বসবাসরত নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবন, আচার রীতি, প্রথা, উৎসব, ধর্মীয় রীতিনীতি পর্যটন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বাংলাদেশের ৪৫ টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় ১৩টি জাতিগোষ্ঠীর বাসই পার্বত্য চট্টগ্রামে। তাদের আত্মসামাজিকতা, জীবনযাত্রার মান, সংস্কৃতি, উৎসব পার্বণ ইত্যাদিই পর্যটন খাতের সহায়ক। বাঙালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ পার্বত্য চট্টগ্রামে আরও বেশী বর্ণিল ভাবে উদযাপন করা হয়। পহেলা বৈশাখ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদেরও প্রধান সামাজিক উৎসব। তবে তা পহেলা বৈশাখে হিসেবে নয়, খাগড়াছড়িতে বৈসাবি, রাঙামাটিতে বিজু উৎসব ও বান্দরবানে সাংগ্রাইং উৎসব হিসেবে পালিত হয়। এসময় পাহাড়ের উৎসব উপভোগ করতে দেশ বিদেশের হাজারও পর্যটন পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থান করে। এসব আচার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যদি ট্যুরিজম পরিকল্পনা করা হয় তাহলে পাহাড়ের পর্যটন অনেক বেশী বিকশিত হবে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা বা কম্যুনিটি ভিত্তিক পযর্টনের ধারণা:
বাংলাদেশে বসবাসরত বৃহৎ জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, খাদ্যাভাস, আইন প্রথা, সামাজিক-ধর্মীয় রীতিনীতি, উৎসব বেশ তফাৎ। স্ব জাতিসত্ত্বার মধ্যে নিবিড় সর্ম্পক বিদ্যামান। পার্বত্যাঞ্চলে পর্যটনের বিকাশের এই অঞ্চলে বসবাসরত জাতিগোষ্ঠীর প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। একইসাথে তা হতে হবে এই অঞ্চলের মানুষকে যুক্ত করে। আদিবাসীদের হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, জীবনধারা, সামাজিক প্রথার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। তা না হলে, এখানকার জনগোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেয়া উন্নয়ন কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। তাছাড়া পর্যটন শিল্পের বিকাশের নামে কোন জাতিগোষ্ঠীকে নিজভূমি থেকে উচ্ছেদ কখনোই মঙ্গলজনক নয় ।

পর্যটনের অর্থনৈতিক গুরত্ব:
বিশ্বে নানা দেশে সেবা খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম পর্যটন শিল্প। বর্তমান বিশ্বে এটি একটি বিকশিত শিল্প খাত। প্রধানত প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যের উপর নির্ভর করে ট্যুরিজমের বিকাশ ঘটে। তাছাড়া মানবসৃষ্ট ইকো পার্ক, রিসোর্ট, উৎসব ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে ট্যুরিজম গড়ে উঠে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য পর্যটন বেশ সম্ভাবনাময় এবং লাভজনক খাত। দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় পাহাড়ে বৃহৎ কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। কর্ণফুলী পেপার মিল, কাপ্তাই প্লাইউড কারখানা এবং রাবার প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে উঠলেও নানা কারণে তা অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া পাহাড়ে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ মৌসুমী ফল উৎপাদন হলেও সরকারি হিমাঘর এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করার জন্য কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। এতে করে পাহাড়ের সবচেয়ে বিকাশমান খাত হিসেবে পযর্টনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ খুবই সম্ভাবনাময়। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাৎপদ এ অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করতে হবে। তাছাড়া আদিবাসীদের নিজের তৈরি হস্তশিল্প-আদিবাসী পোশাক, কুটির শিল্প, খাদ্য সামগ্রী বিপননের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ ঘটাতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন এখানকার স্থানীয় মানুষদের এই খাতের সাথে সম্পৃক্ত করা।

পরিশেষে পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটনের বিকাশে সরকারি ও বেসরকারি যেকোন উদ্যোগে সবার আগে ভাবতে হবে স্থানীয় জনসাধারণের সম্পৃক্ততা। মনে রাখতে হবে স্থানীয় জাতিগোষ্ঠীদের অবহেলা/ক্ষতিগ্রস্ত করে পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা কখনো সম্ভব নয়।

সমির মল্লিক, সংবাদকর্মী ও পর্যটন উদ্যোক্তা

Print Friendly, PDF & Email

Share This:

খবরটি 172 বার পঠিত হয়েছে


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

ChtToday DOT COMschliessen
oeffnen