শিরোনামঃ

দলের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা, বিশ্বাস ঘাতকতার অভিযোগ

দলীয় কোন্দলে জর্জরিত রাঙামাটি জেলা বিএনপি

সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। দলীয় আভ্যন্তরীন কোন্দলে জর্জরিত রাঙামাটি জেলা বিএনপি। জেলা সভাপতির নেতৃত্বে বিএনপির একটি অংশ কেন্দ্র ঘোষিত পালন করছে কলেজ গেইট এলাকায় অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পৌর বিএনপির সভাপতির নেতৃত্বে অপর অংশটি দলীয় কার্যালয়ে কর্মসুচী পালন করছে। BNP২০০৯ সনের ডিসেম্বর মাসে গঠিত কমিটির মেয়াদ ইতিমধ্যে উর্ত্তীন হয়ে গেছে। বর্তমান জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে বিএনপির একটি অংশ, ছাত্রদল যুবদল একাট্টা হয়ে এই কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহবায়ক গঠনের দাবী জানিয়েছে।

বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিএনপিতে যোগ দেন সাবেক জেলা যুগ্ন জজ এড. দীপেন দেওয়ান, দীর্ঘদিনের দলের সভাপতি নাজিম উদ্দিনকে সরিয়ে ২০০৯ সনে কাউন্সিলের মাধ্যমে সে সময় দলে সদ্য যোগদানকারী এডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে সভাপতি শাহ আলমকে সাধারন সম্পাদক এবং সাইফুল ইসলাম পনিরকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। বিএনপিতে এডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে যোগদান করানোর পিছনে বর্তমান পৌর মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্রো, যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পনিরের ভুমিকা ছিল অন্যতম।
২০০৯ সনে জেলা কমিটি গঠনের পর বিপত্তি বাধে উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে। বিএনপির একটি অংশের অভিযোগ দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত নেতাদের বাদ সদ্য যোগদান করানো পাহাড়ী নেতাদের দিয়ে দীপেন দেওয়ান পকেট কমিটি বানিয়েছে।
পরবর্তীতে সময়ে কমিটি গঠনের বিরোধকে কেন্দ্র করে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা কর্নেল মণীষ দেওয়ানকে দীপেন দেওয়ানকে ঠেকাতে দলে যোগদান করায়। দলে একের পর এক কোন্দলে তিনিও এখন নিস্ক্রিয়।
বিগত পৌরসভার নির্বাচন এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে
কাজ করার অভিযোগ করেছে বিএনপির পৌর মেয়রের নেতৃত্বাধীন অংশটি। এ বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করলেও বিএনপিপন্থী পাহাড়ীদের একটি অংশ নির্বাচনে ভোট দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে বিএনপির একটি বড় অংশ সভাপতি বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। গত মে মাসে জেলা দলীয় কার্যালয়ে ত শ্রমিক দলের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিএনপির একটি অংশের হাতে নাজেহাল হোন জেলা সভাপতি। তাকে তারা অবাঞ্চিত ঘোষনা করে এবং দলীয় অফিস থেকে বের করে দেয়। ওই ঘটনার পর থেকে দীপেন দেওয়ান জেলা অফিসে যান না এবং তার নিজ কলেজ গেইট এলাকায় দলীয় কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসুচীগুলো পালন করেন।
সবশেষ গত ১৫ আগষ্ট বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীও পালন করা হয় আলাদাভাবে। একটি অংশ দলীয় অফিসে জন্মদিনের কেক কাটলেও অপর অংশটি কলেজ গেইট এলাকায় কেক কাটেন। দলীয় অফিসে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শাহ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পনির এবং পৌর   বিএনপির সভাপতি ও পৌর  মেয়র সাইফুল ইসলাম ভুট্রো, জেলা যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল এবং ছাত্রদলের সভাপতি আবু সাদাত সায়েমের নেতৃত্বে  বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠন সমূহ  কর্মসুচী পালন করে।বিএনপি চেয়ারপার্সনের জন্মদিনে দলীয় অফিসে কেক কেটে একাংশের জন্মদিন পালন

বিএনপি চেয়ারপার্সনের জন্মদিনে দলীয় অফিসে কেক কেটে একাংশের জন্মদিন পালন

বর্তমান জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে বিএনপির একটি অংশ, ছাত্রদল যুবদল একাট্টা হয়ে এই কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহবায়ক গঠনের দাবী জানিয়ে কেন্দ্রে আবেদন পাঠিয়েছে।

দলের কোন্দল নিয়ে জেলা ছাত্রদল সভাপতি ও যুবদল সভাপতি অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন জেলা সভাপতির দিকে।
জেলা ছাত্রদল সভাপতি আবু সাদাৎ সায়েম বিএনপিতে কোন্দল নেই দাবী করে বলেন, জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে জেলার অধিকাংশ নেতা কর্মী অনাস্থা দিয়েছে তাকে বাদ দিয়ে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বেরাতান্ত্রিক মনোভাবের কারনে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা। তিনি এখনো মনে প্রানে বিএনপি হতে পারেননি তাই আগামীতে সরকার বিরোধী আন্দোলন কতটুকু তা নিয়ে নেতা কর্মীদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
একই আশংকা ব্যক্ত করে জেলা যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল বলেছেন, এক ব্যাক্তির স্বেচ্ছাচারিতা, দলের কর্মসুচীর ব্যাপারে অনীহা, দলীয় নেতা কর্মীদের অব মুল্যায়ন দলীয় নেতা কর্মীদের বিপদে আপদে পাশে না দাড়ানোসহ নানা কারনে তার উপর দলীয় নেতা কর্মীরা ক্ষুব্দ ও বিরক্ত। আমরা সরকার বিরোধী আন্দোলনে যুবদলের নেতা কর্মীরা বেশী মামলা ও হামলা স্বীকার অথচ একবারের জন্যও আমরা তাকে পায়নি। আগামীতে আমরা দলের ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিককে নতুন কমিটিতে দেখতে চাই।
দলীয় কোন্দলের বিষয়টি স্বীকার করে রাঙামাটি পৌর বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, জেলা সভাপতির কর্মকান্ড নিয়ে দলে অসন্তোষ রয়েছে। তার কারন হচ্ছে তিনি দলের ত্যাগী পরীক্ষিত নেতা কর্মীদের বাদ দিয়ে পকেট কমিটি করেছেন। এছাড়া জেলা বিএনপির সভাপতি মুলত: জেএসএসের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন উনি বিএনপির রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না।
বিগত পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় তিনি দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী থাকা সত্বেও তিনি তার অনুসারী পাহাড়ী বন্ধুরা জেএসএস সমর্র্থিত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে দলের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন। এছাড়া ৫ জানুয়ারী ভোটারবিহীন নির্বাচন বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোট বয়কট করলেও জেলা সভাপতি জনসংহতি সমিতির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দলের কোন কোন নেতা কর্মী আঞ্চলিক দল পার্বত্য সম অধিকার ও জেএসএস করলেও তা নিরবে ছিল কিন্তু আমাদের সভাপতি জেএসএসের এজেন্ট হিসেব কাজ করেন এবং বিএনপির পরবর্তে জেএসএসর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন করতে গেলে তা প্রকাশ্যে রুপ নেয়। এই বিরোধটা আগে ছিল না। এছাড়া দলের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা ও বিশ্বাসঘাতকতা ছিল না। এবার সংসদ নির্বাচনে ভোটের মধ্যে পাহাড়ী বাঙ্গালীর যে বিষয়টা এসেছে এটা কারো জন্য সুখকর নয়।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, রাঙামাটি বিএনপিতে কোন্দল নেই, বিএনপি একটা বড় দল মাঝে মধ্যে মত পার্থক্য হয়, আমরা সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি আরো বলেন, এটা মিথ্যা বানোয়াট বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি আমাদের আর্কষন রয়েছে আমি জাতি ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করতে চাই সে লক্ষ্য আমরা জাতি ধর্ম বর্ন গোষ্ঠী সকলের সহযোগিতায় চেয়েছি এবং আমরা অভুতপুর্ব সারা পাচ্ছি।

জেলা বিএনপির সভাপতি এড. দীপেন দেওয়ানের নেতৃত্বে কলেজ গেইট এলাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসুচী পালন

জেলা বিএনপির সভাপতি এড. দীপেন দেওয়ানের নেতৃত্বে কলেজ গেইট এলাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসুচী পালন

কোন্দল সরকার বিরোধী আন্দোলনে প্রভাব ফেলবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তৃনমুল থেকে শুরু করে আমরা আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত।
পৌর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সভাপতির মাঝখানে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক। দলের কোন্দল নিয়ে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শাহ আলম বলেন, দলের সভাপতির বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে সে বিষয়ে আমি দলের মহাসচিবের সাথে কথা বলেছি তিনি জানিয়েছেন শীঘ্রই রাঙামাটি জেলা বিএনপির মত পার্থক্য নিরসনে কেন্দ্র থেকে দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দকে পাঠাবেন। তবে সরকার বিরোধী আন্দোলনে মনো মালিন্য বাধা সৃষ্টি করবে না বলে তিনি মনে করেন।

তবে দলের সাধারন নেতা কর্মীরা বর্তমান মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে দলের জন্য ত্যাগী, পরীক্ষিত নেতা কর্মীদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবী জানিয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Share This:

খবরটি 555 বার পঠিত হয়েছে


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

ChtToday DOT COMschliessen
oeffnen