শিরোনামঃ

লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর; আসামি শনাক্ত বলছে পুলিশ

ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল হত্যার প্রতিবাদ বিক্ষোভ

সিএইচটি টুডে ডট কম, খাগড়াছড়ি। খাগড়াছড়িতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী মোঃ রাসেল(১৭)র লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টার দিকে পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাসেলের লাশ খাগগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল থেকে তার বাড়ীতে পৌছে দেয়া হয়। এদিকে লাশ পেয়ে স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ছড়িয়ে পড়ে শোকের মাতম।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি জেলা সদরের মিলনপুর ব্রীজ এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল গুরুতর আহত হয়। তাকে প্রথমে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরণ করে চিকিৎসকরা। এসময় পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত রাসেল জেলা সদরের কদমতলীর হরিনাথ পাড়ার মোঃ নুর হোসেনের ছেলে। সে ৬নং পৌর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সদস্য বলে জানিয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি টেকো চাকমা। এই ঘটনার জন্য খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলমের অনুসারীদের দায়ী করেছে সংগঠনটি।
খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহাদাত হোসেন টিটো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতারে মাঠে রয়েছে পুলিশ। তবে এখনো কোন মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানান তিনি। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সকাল সাড়ে ১১ দিকে শরনার্থী পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান ( প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি নিহত ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল বাড়ীতে যান। কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। তিনি রাসেল পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে সবসময় তাদের পাশে থাকার ঘোষনা দেন।
এদিকে দুপুরে এ ঘটনার প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জেলা আওয়ামী লীগ,ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠন। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রেসক্লাব এলাকায় পৌছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। পরে প্রেসক্লাব সামনেই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মংসুই প্রু চৌধুরী অপু, উপ-দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক জুয়েল চাকমা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল আজম, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হোসেন ,মেহেদী হাসান হেলাল ও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি টেকো চাকমা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা এ হত্যাকান্ডের জন্য মেয়র রফিকুল আলম, তার ছোট ভাই দিদারুল আলম ও মমিনকে দায়ী করে তাদের গ্রেফতারে পুলিশ প্রশাসনকে ৪৮ ঘন্টার আলটিমেটাম দেন। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসুচী ঘোষনার হুমকী দেয়া হয়।
অন্যদিকে মেয়র রফিকুল আলম এ হত্যাকান্ডের সাথে তার জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ড হয়েছে বলে দাবী করেন এবং তিনিও ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একটি মহল ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।

Print Friendly, PDF & Email

Share This:

খবরটি 155 বার পঠিত হয়েছে


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

ChtToday DOT COMschliessen
oeffnen